আ/গুনে সব শেষ, কড়াইল বস্তিতে খোলা আকাশের নিচে সংগ্রাম

সর্বশেষ
আ/গুনে সব শেষ, কড়াইল বস্তিতে খোলা আকাশের নিচে সংগ্রাম
রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিতে ভ/য়াবহ আ/গুনে পুড়ে গেছে হাজারো মানুষের ঘর আর শেষ সম্বল। আ/গুন নেভার পর থেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষ/তিগ্রস্ত পরিবারগুলো। ভাঙা টিন, পোড়া কাঠ, গলে যাওয়া প্লাস্টিক আর ধোঁয়ার গন্ধে ভারী হয়ে আছে পুরো এলাকা। দিনের আলো ফুটতেই শুরু হয় ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার আর নতুন করে ঘর তোলার চেষ্টা।
চারদিকে শুধু পোড়া ইট, কালো ছাই আর কান্নার শব্দ। যেসব ঘর এক ইঞ্চি ইট দিয়ে তৈরি ছিল, তার চারপাশে এখন পলিথিন আর কাপড় টানিয়ে চলছে দিন-রাত। শিশুরা খুঁজে বেড়াচ্ছে তাদের পুড়ে যাওয়া খেলনা বা স্কুলব্যাগের ছা/ই, নারীরা সংগ্রহ করছেন যা কিছু বাঁচানো সম্ভব, আর পুরুষরা ভাঙা কাঠ-খুঁটি সাজাচ্ছেন নতুন করে দাঁড়ানোর আশায়।
বস্তিবাসী রহিমা বেগম বলেন, জীবনে কতবার ঘর বানিয়েছি আর হারিয়েছি, তা গুনে শেষ করা যাবে না। অন্যদিকে আকলিমা বেগমের অভিযোগ—ত্রাণ এলেও বিতরণ হচ্ছে খুবই অল্প, পরিবারের পরিমাণের তুলনায় তা একমুঠো বললেই চলে। শীত আর খাবার-পানির সংকটে ভীষণ কষ্টে দিন কাটছে তাদের।
মনোহারি দোকানি আব্দুস সালামের দুই বছরের সঞ্চয় মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখন শুরু করব কোথা থেকে—কিছুই বুঝতে পারছি না। সেলাই মেশিন হারানো রাবেয়া খাতুন বললেন, জীবিকার একমাত্র উপায়টাই পুড়ে গেছে।
ত্রাণসহায়তা এলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ বস্তিবাসীর। পানি সরবরাহ নষ্ট হওয়ায় তৈরি হয়েছে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি। এত বেশি সংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যক্তি বা সংগঠনের আনা সহায়তা ঠিকভাবে বণ্টন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঢাকা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সালাহ উদ্দীন ওয়াদুদ জানান, ১৯০০ পরিবারের তালিকা তৈরি হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে চাল, ডাল, তেল, হলুদসহ প্রায় ১৪ কেজি পণ্যের প্যাকেট, পানি, মশারি ও কম্বল দেওয়া হয়েছে। ইউনিসেফ শুরু করেছে বাচ্চাদের মানসিক-শারীরিক পুনর্বাসন কার্যক্রম, এবং বিভিন্ন সংস্থা চালাচ্ছে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে কড়াইল বৌবাজার ইউনিটে আ/গুন লাগে। ১৯টি ইউনিটের পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আ/গুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পরদিন সকাল সাড়ে ৯টায় পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *