নির্বাচনে আট ঝুঁ/কি ও গোয়েন্দাদের দশ করণীয়

রাজনীতি
নির্বাচনে আট ঝুঁ/কি ও গোয়েন্দাদের দশ করণীয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য আটটি বড় ঝুঁ/কি শনাক্ত করেছে। এসব ঝুঁকি নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরা/পত্তা ও শান্ত পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় দশটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো এ প্রতিবেদন অনুযায়ী সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আসনভিত্তিক নিরা/পত্তা। ভোটার সংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থা, পূর্বের সংঘাত, গত নির্বাচনের ফলাফল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বিবেচনায় বিশেষ নিরা/পত্তা পরিকল্পনা নিতে হবে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্টের ঘটনার পর বিভিন্ন থানায় লুন্ঠিত অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। একই সঙ্গে পুরনো লাইসেন্সকৃত অস্ত্রও অনেকেই জমা দেননি। এসব অ/স্ত্র সন্ত্রা/সীরা ব্যবহার করে নির্বাচনে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।
দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের চরমপন্থি গ্রুপ এবং তিন পার্বত্য জেলায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় কিছু মহল তাদের ব্যবহার করে সহিংসতা ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাতে পারে।
দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ সংখ্যালঘু। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা—সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় পরিকল্পিত ঘটনা ঘটিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা হতে পারে। এছাড়া ধ/র্ম নিয়ে অপপ্রচার, সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানি এবং এআই ব্যবহার করে গুজব ছড়ানোর আশঙ্কাও উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, যেসব আসনে অতীতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে বা অল্প ভোটে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে, সেসব আসনে সংঘাত বাড়ার সম্ভাবনা বেশি। কেউ যেন নির্বাচনী ফল নিজেদের পক্ষে নিতে সহিংসতায় জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত ১০টি সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—
• আগস্ট-পরবর্তী লুণ্ঠিত অ/স্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান
• জামিনপ্রাপ্ত স/ন্ত্রাসীদের তৎপরতা প্রতিরোধ
• সংখ্যালঘুদের নি/রাপত্তা নিশ্চিত করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি
• সীমান্ত, চরমপন্থি ও পার্বত্য এলাকার জন্য আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা
• রাজনৈতিক সং/ঘাত এড়াতে কঠোর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ
• এআই ও সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণে বিশেষ সাইবার সেল
• জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও এবং ওসিদের কঠোর ভেটিং
গোয়েন্দারা মনে করছেন, সময়মতো এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে নির্বাচনের পরিবেশ স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *