টিউলিপের বি/চার-সাজা নিয়ে দুদকের প্রতিক্রিয়া

রাজনীতি
টিউলিপের বি/চার-সাজা নিয়ে দুদকের প্রতিক্রিয়া
প্লট দু/র্নী/তি মামলায় ব্রিটিশ এমপি ও শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিকীর বিচার এবং সাজা নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলে যে প্রশ্ন উঠেছে—সেই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত থাকার পরও টিউলিপের বিচার নিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে, সেগুলো বিশদভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।
দুদক জানায়, তাদের তদন্ত অনুযায়ী মামলার নথিতে স্পষ্ট—টিউলিপ সিদ্দিকীর মা, ভাই-বোন এবং চাচাতো ভাই-বোনদের নামে যে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তা ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণ। এমনকি একটি মামলায় দেখা যায়—তার খালা সরকারপ্রধান থাকা অবস্থায় টিউলিপ নিজেও অতিরিক্ত একটি প্লট বরাদ্দ পান। পরে তারা বিচার এড়িয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল–৫ এর মামলায় (স্পেশাল কেস নম্বর ১৮/২০২৫) টিউলিপ দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন পরিবারের সদস্যদের জন্য প্লট নিশ্চিত করতে ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর দায়ে। মামলায় প্রসিকিউশন মোট ৩২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি উপস্থাপন করে, যাদের বেশ কয়েকজন হলফনামায় জানান—টিউলিপ তার খালার কাছ থেকে প্রভাব খাটিয়ে প্লট বরাদ্দ আদায় করেছিলেন।
দুদক আরও জানায়, ঢাকার গুলশানের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় যেসব মূল্যবান প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো মূলত জনসংখ্যার চাপ কমাতে আবাসন নির্মাণের উদ্দেশ্যে সরকারি মালিকানাধীন জমি ছিল। কিন্তু সেই জমি বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর নিকটজনদের মধ্যে, যা পরিবারভিত্তিক সম্পদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করে সংস্থাটি।
এ ছাড়া টিউলিপের সঙ্গে লন্ডনের একাধিক সম্পত্তির যোগসূত্র রয়েছে বলেও দুদক জানায়। প্রশ্ন তোলে—সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কীভাবে বিদেশে এমন সম্পত্তি ক্রয়ের সক্ষমতা অর্জন করেন। যদিও টিউলিপ দাবি করেন তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি, দুদক বলেছে—তিনি বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে নিজেই অস্বীকৃতি জানান।
সংস্থার ভাষ্য—উপস্থাপিত প্রমাণ ও পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখায় টিউলিপ সিদ্দিকী দু/র্নীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তাকে নির্দোষ প্রমাণ করার কোনো ভিত্তি নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *