উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এইচএসসি) যারা ভালো ফল করেছে, তাদের অভিনন্দন জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বলেছেন, ফলাফল শুধুই পরিসংখ্যান নয়; এটি পরিবার, আশা, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যতের গল্প।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “আজকের দিনটি সহজ নয়—না শিক্ষার্থীদের জন্য, না অভিভাবকদের জন্য, না শিক্ষা প্রশাসনের জন্য। যাদের ফল প্রত্যাশামতো হয়নি, তাদের প্রতি আমার সহানুভূতি আছে। হতাশা থাকলেও এটি শেখার অংশ, তোমাদের পরিশ্রম কখনোই বৃথা যায় না।”
এইচএসসি-২০২৫-এর ফলাফল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। ২০২৪ সালের তুলনায় পাসের হার কমেছে ১৮.৯৫ শতাংশ।
ফলাফল কম হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আবরার বলেন, “এর উত্তর জটিল নয় বরং সহজ, কিন্তু অস্বস্তিকর। বাংলাদেশে শেখার সংকট শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকেই। আমরা এমন এক সংস্কৃতি গড়ে তুলেছি যেখানে সংখ্যাই সত্য হয়ে উঠেছিল—পাশের হারই সাফল্যের প্রতীক। ফল ‘ভালো’ দেখাতে গিয়ে আমরা প্রকৃত শেখার সংকট আড়াল করেছি। আজ আমি সেই সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থা যেন বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে এবং শিক্ষার্থীর শেখাকে সত্যিকারের মূল্যায়ন করে। অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে সন্তুষ্টি নয়, ন্যায্য নম্বর দিয়ে সততাকেই বেছে নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত সহজ নয়, কিন্তু প্রয়োজনীয়।”
প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডকে তাদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বতন্ত্র পর্যালোচনা রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হবে, যারা ডেটা বিশ্লেষণ করে শেখার মূল ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করবেন। উদ্দেশ্য হলো অভিযোগ নয়, সমাধান খোঁজা।

