ঢাকা ক্যাপিটালসের খেলোয়াড়দের তলব করায় অসন্তোষ ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিক পক্ষ

খেলাধুলা

ঢাকা ক্যাপিটালসের খেলোয়াড়দের তলব করায় অসন্তোষ ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিক পক্ষ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) মাঠের লড়াইয়ের বাইরে চাপের মুখে পড়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস। টুর্নামেন্ট চলাকালীন কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের একাধিক পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ তারা। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিপিএলে থাকা কঠিন হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদ। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সিলেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের বিরুদ্ধে তার দলের ক্রিকেটারদের মানসিক অস্বস্তিতে ফেলার অভিযোগও তুলেছেন আতিক ফাহাদ। ফিক্সিং বন্ধে এবারের বিপিএলে যে কঠোরতার কথা জানিয়েছিল বিসিবি, তাতে ‘আইসিসির রেগুলেশন’ মানা হচ্ছে না বলে দাবি ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রধান নির্বাহীর।
ঢাকা ক্যাপিটালসের অভিযোগ, স্বচ্ছতার কথা বলে হঠাৎ করেই আফগান ওপেনার রাহমানউল্লাহ গুরবাজের কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাটিংয়ে নামার ঠিক আগে সাইফ হাসানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এ ছাড়া দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আতিক ফাহাদের একটি মোবাইল ফোন জব্দ করার ঘটনাও ঘটেছে। এসব আচরণে দল ও ম্যানেজমেন্ট বিব্রত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত—এমনটাই দাবি তাদের।পটভূমিতে রয়েছে গত আগস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন, যেখানে আগের আসরে কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। যদিও সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো অভিযোগ অস্বীকার করে এবং চলতি মৌসুমে ঢাকাই মালিকানা বহাল থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে দলটি বর্তমানে তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ মিঠুন, নাসির হোসেন ও গুরবাজের মতো ক্রিকেটারদের নিয়ে মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আতিক ফাহাদ বলেন, ‘আজকে (শুক্রবার) সকালের একটা ঘটনা বলি। রহমানউল্লাহ গুরবাজ সারা রাত ঘুমাতে পারেনি। সকাল ৭–৮টার দিকে ঘুমিয়েছে। হঠাৎ কয়েকজন এসে কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া বা টিম ম্যানেজমেন্টকে না জানিয়ে, শুধু নক করে তার রুমে ঢুকে গেছে। আমাকে গুরবাজ এসে বলছে, হোয়াট ইজ দিস?’
এই ঘটনার পর আফগানিস্তানের ওপেনার গুরবাজকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তার ফোনও পরীক্ষা করা হয়। পরে গুরবাজ ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের সঙ্গে কথা বলেন। সেখান থেকে তাকে জানানো হয়, এভাবে কোনো ক্রিকেটারের রুমে ঢুকে যাওয়ার নিয়ম নেই। আগে থেকেই জানাতে হয়। ক্রিকেটারদের মানসিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকা জরুরি—এ কথাও জানানো হয়েছে তাকে।
রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচের সময় সাইফ হাসানকে প্যাড পরা অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদ নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন বলেছেন, ‘ম্যাচের মধ্যে যখন একটা ছেলে প্যাড পরে আছে, তখন এসে তাকে পোক করে কীভাবে! খেলোয়াড় হিসেবে আমার ১৫–১৬ বছরের ক্যারিয়ারে এ রকম ঘটনা কখনো শুনিনি। পৃথিবীর কোথাও এমন হয় না।’
তবে মাঠের বাইরের পরিস্থিতি নিয়ে আতিক ফাহাদের বক্তব্য স্পষ্ট, ‘ম্যানেজমেন্ট ও খেলোয়াড়রা যদি মানসিকভাবে স্থিতিশীল না থাকে, তাহলে ভালো ফল কীভাবে প্রত্যাশা করব? আমরা প্রতিবছর ২–৩ কোটি টাকা লোকসান দিয়েও দেশের ক্রিকেটের জন্য বিপিএল চালিয়ে আসছি। সেই অবস্থায় যদি এভাবে মানসিক চাপ দেয়া হয়, তাহলে ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে টিকে থাকা কঠিন।’
নির্দিষ্ট একটি দল ছাড়া বিপিএলের অন্য সব দলের সঙ্গেই এমন আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি প্রধান নির্বাহীর। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিপিএল চালিয়ে যাওয়ার সাহস থাকবে না বলে মনে করেন তিনি, ‘খরচ করব, ক্ষতি মেনে নেব, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিএসআর তহবিল এনে লিগে বিনিয়োগ করব—আর শেষে অসম্মান নিয়ে ফিরব, এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’সব মিলিয়ে, ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের সাম্প্রতিক তৎপরতা নিয়ে ঢাকা ক্যাপিটালসের অসন্তোষ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—যা বিপিএলের জন্যও নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

#ক্রিকেট #টি20 #বিপিএল #বিসিবি
#ফ্র্যাঞ্চাইজি #ঢাকা #ক্যাপিটালস
#cricket #BPL #BCB #t20
#franchaise #dhaka #capitals
#sports #sportsnews #JONODESH

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *