মেসি উন্মাদনায় কলকাতা বিশৃঙ্খল হলেও হায়দরাবাদ ছিলো সুশৃঙ্খল
ফুটবলের আইকন লিওনেল মেসিকে ঘিরে ভারতের দুই শহরে দেখা গেছে দুরকম চিত্র। সকালে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে প্রত্যাশিত আয়োজন ব্যাহত হলেও, সন্ধ্যায় হায়দরাবাদে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় সফল একটি অনুষ্ঠান উপহার দিল উপ্পল স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ।
কলকাতার সমর্থকদের অভিযোগ ছিল— অতিরিক্ত লোকজন ও ফটোগ্রাফারদের ভিড়ে মেসিকে দেখাই যায়নি। হায়দরাবাদে ঠিক উল্টো চিত্র। মেসির চারপাশে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা রাখা হয়, যাতে দর্শকরা স্পষ্টভাবে তাকে দেখতে পারেন। মাঠে যতক্ষণ তিনি ছিলেন, ততক্ষণ সব নজর ছিল কেবল তার দিকেই।
কলকাতায় ভিড় ও নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে মেসিকে ঘিরে অস্থিরতা তৈরি হয়। এতে অনেক দর্শক স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকেও তারকাকে ঠিকভাবে দেখতে পারেননি। বিপরীতে হায়দরাবাদে কড়া নিরাপত্তা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৪০ মিনিট মাঠে থেকেও কোনো অস্বস্তি ছাড়াই দর্শকদের মন জয় করেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। সন্ধ্যা ৬টা থেকে উপ্পল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান শুরু হলেও মেসির প্রবেশ ঘটে রাত ৭টা ৫৭ মিনিটে। গাড়ি থেকে নেমে নিরাপত্তারক্ষীদের ঘেরাটোপে তিনি সরাসরি স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়েন। সে সময় মাঠে চলছিল প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ। সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি’পলের সঙ্গে ভিভিআইপি বক্সে দাঁড়িয়ে ম্যাচ উপভোগ করেন মেসি।
মাঠে উপস্থিত ছিলেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিও। মেসির মাঠে আসার পর তিনিও মাঠে নামেন এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি গোল করেন। রাত ৮টা ১০ মিনিটে মেসি মাঠে নামতেই ‘মেসি, মেসি’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম। লাতিন সঙ্গীতের তালে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পরিবেশ।
রেবন্ত, সুয়ারেজ ও ডি’পলের সঙ্গে ‘পাসিং দ্য বল’ খেলায় অংশ নেন মেসি। দু’বার লং শটে গোল করেন তিনি। মাঝেমধ্যেই বল পায়ে নাচিয়ে দর্শকদের মাতান। পরে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন এবং কয়েকবার বল পাঠান গ্যালারিতেও
দুই শহরের আয়োজনের মূল পার্থক্য ছিল নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণে। কলকাতায় মেসি নামতেই ছবি ও সেলফি শিকারিদের ভিড় দেখা গেলেও হায়দরাবাদে তা একেবারেই ছিল না। চিত্রসাংবাদিকের সংখ্যা ছিল সীমিত, নিরাপত্তা ছিল কঠোর। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিও মেসির খুব কাছে যাননি।

