সূর্যাস্তের কমলা ও লাল রঙের রহস্য
সূর্যাস্তের সময় আকাশকে কমলা, লাল ও গোলাপি রঙে আলোকিত দেখে সবাই মুগ্ধ হন। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন সূর্যাস্তের সময় সূর্য সাধারণত লাল বা কমলা রঙ ধারণ করে?
বিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় র্যালে স্ক্যাটারিং (Rayleigh Scattering)। যখন সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও অন্যান্য ক্ষুদ্র কণার সঙ্গে ধাক্কা খায়। এই ধাক্কার ফলে আলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
সূর্যের আলো আসলে সাতটি রঙের সমষ্টি—বেগুনি, নীল, আকাশি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট, আর লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বড়। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, আলো তত বেশি ছড়ায়। তাই দিনের বেলা সূর্য মাথার ওপর থাকলে নীল আলো বেশি ছড়িয়ে আকাশকে নীল দেখায়।
সূর্য যখন দিগন্তের কাছে আসে, তখন আলোর পথ অনেক দীর্ঘ হয়। ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল, বেগুনি ও সবুজ আলো বায়ুমণ্ডলে বারবার ধাক্কা খেয়ে ছড়িয়ে যায়। ফলে তারা আমাদের চোখে পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু লাল ও কমলার আলো তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড় হওয়ায় কম ছড়িয়ে সরাসরি চোখে পৌঁছায়। এজন্যই সূর্যাস্তের সময় সূর্য লাল বা কমলা দেখায়।
বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণা, ধোঁয়া বা আর্দ্রতার উপস্থিতি সূর্যাস্তের রঙকে আরও তীব্র ও উজ্জ্বল করে। তাই আকাশে রঙের এই চমৎকার খেলা প্রকৃতির এক সহজ পাঠ, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর আলো ও বায়ুমণ্ডল এক অপরূপ মিথস্ক্রিয়ার মধ্যে কাজ করছে।

