অধিকাংশ মানুষ কেন বাঁহাতে ঘড়ি পরেন?
প্রতিদিন আমরা দেখি, বন্ধু, সহকর্মী বা পরিচিতরা বাঁহাতে ঘড়ি পরছেন। দোকানেও ঘড়ি দেখানো হয় সাধারণত বাঁহাতে, বিজ্ঞাপনেও মডেলদের হাতে ঘড়ি থাকে বাম দিকে। কিন্তু কেন? শুধু ফ্যাশন, নাকি এর পেছনে রয়েছে বাস্তব ও যুক্তিসঙ্গত কারণ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল স্টাইলের ব্যাপার নয়। দৈনন্দিন কাজের সুবিধা, ঘড়ির সুরক্ষা এবং ইতিহাস—all মিলিয়ে বাঁহাতে ঘড়ি পরা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।
মূল কারণগুলো হলো—
১. কাজের সুবিধা
বিশ্বের প্রায় ৯০% মানুষ ডানহাতি। লেখালেখি, টাইপিং, মোবাইল ব্যবহার—অধিকাংশ কাজই তারা ডান হাতে করেন।
নিরবচ্ছিন্ন কাজ: ডানহাত ব্যস্ত থাকলেও বাঁহাতে থাকা ঘড়ি দেখে সময় জানা যায়, কাজ থামাতে হয় না।
আরামদায়ক ব্যবহার: ডান হাতে ঘড়ি পরলে লেখার সময় ঘর্ষণ হতে পারে, তাই বাঁহাতে পরা সুবিধাজনক।
২. সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবহার
ঘড়ি সংবেদনশীল ও মূল্যবান। সাধারণত নন-ডমিন্যান্ট হাতে পরলে:
ধাক্কা লাগার ঝুঁকি কমে: ডানহাত দিয়ে বেশি কাজ হওয়ায় আঘাতের সম্ভাবনা বেশি।
দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকে: কম আঘাত পাওয়ায় ঘড়ি দীর্ঘস্থায়ী হয়।
৩. ঐতিহাসিক প্রভাব
পুরনো ম্যানুয়াল ওয়াইন্ডিং ঘড়িতে ‘ক্রাউন’ ডান পাশে থাকত। বাঁহাতে ঘড়ি পরলে ডানহাত দিয়ে সহজেই দম দেওয়া যেত। এ অভ্যাস ডানহাতিদের মধ্যে প্রচলিত হয়ে যায়।
৪. বামহাতিদের নিয়ম উল্টো
বামহাতিরা সাধারণত ঘড়ি পরেন ডান হাতে, কারণ তারা বাঁহাত বেশি কাজে ব্যবহার করেন। এতে কাজ সহজ হয় এবং ঘড়ি সুরক্ষিত থাকে।

