জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সাতটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে নতুন একটি নির্বাচনি জোট গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জোটের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেনশন হলে জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে।
এই নতুন জোটে থাকছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং ‘আপ বাংলাদেশ’ নামে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। এছাড়া আরও দুই দল আলোচনায় রয়েছে এবং তারা প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানা গেছে।
জোট সংশ্লিষ্টরা জানান, জোটের নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। আপাতত প্রত্যেক দলের একটি করে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে। আগামী মাসে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জোটের উদ্যোগে বড় সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাইয়ের গণ–অভ্যু/ত্থানে যারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে, তাদের মিলেই এই নতুন জোট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে জোট ঘোষণার তারিখ কিছুটা পিছিয়েছে।
জানা যায়, জোট ঘোষণার ভেন্যুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে।
বিভিন্ন দলের নেতারা যুগান্তরকে জানান, বিএনপি ও জামায়াত পৃথকভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। সেই পুরনো রাজনৈতিক ধারার বাইরে এসে রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই সনদের মতো বিষয়গুলোতে একমত দলগুলো নিজেদের নতুন রাজনৈতিক বলয় তৈরি করতে চাইছে। এ কারণেই নতুন জোটের সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম বলেন, সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই হয়েছে। গণতন্ত্র মঞ্চকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। মঞ্চের আরেকটি দলও এই প্রস্তাবিত জোটে যোগ দিতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।
গত এক মাসে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায়, এনসিপি ও এবি পার্টি অন্যান্য সমমনা দলগুলোর সঙ্গে নতুন জোট গঠনের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

