নাটকীয় ফাইনালে মরক্কোকে কাঁদিয়ে আফ্রিকান নেশন্স কাপ জিতলো সেনেগাল

খেলাধুলা

নাটকীয় ফাইনালে মরক্কোকে কাঁদিয়ে আফ্রিকান নেশন্স কাপ জিতলো সেনেগাল

আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের (আফকন) শিরোপা জিতল সেনেগাল। মরক্কোর বিপক্ষে ঘটনাবহুল মেগা ফাইনালে রেফারির সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তেজনা, কোচের নির্দেশে খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে চলে যাওয়া, আবার মাঠে ফেরা সব মিলিয়ে এক নাটকীয় ফাইনালের সাক্ষী হলো এই ম্যাচ।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাবাতে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে স্বাগতিকদের ১-০ গোলে হারিয়েছে সেনেগাল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকলেও অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই দর্শনীয় এক গোল করেন পাপ গেয়ি। সেই গোলেই মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা নিশ্চিত হয় তাদের।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বার আফ্রিকান নেশন্স কাপ জিতল সেনেগাল। এর আগে, ২০২২ সালে মিশরকে হারিয়ে প্রথমবার মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল দেশটি। অন্যদিকে, মরক্কোর শিরোপা অপেক্ষা দীর্ঘ হলো আরও। ১৯৭৬ সালের পর আর এই ট্রফির স্বাদ পায়নি তারা।

অথচ এই ট্রফি সাদিও মানের দলের জেতারই কথা ছিল না। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে মরক্কোর পাওয়া পেনাল্টি নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরে মানের অনুরোধে তারা আবার মাঠে ফেরেন।
ভিএআর দেখে কঙ্গোর রেফারি জ্যঁ-জ্যাক এনডালা এই সিদ্ধান্ত দেন। কর্নার ঠেকাতে গিয়ে সেনেগালের ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিউফ ব্রাহিম দিয়াজকে টান দেন বলে রায় আসে। এই সময় মাঠে দীর্ঘ ১৪ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়।
পেনাল্টি নিতে এসে মরক্কোর তারকা ব্রাহিম দিয়াজ প্যানেনকা শট নেন। তার দুর্বল শট সহজেই ধরে ফেলেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি। এই সুযোগ নষ্টে হতাশ হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোলটি।
মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ইদ্রিসা গানা গেইকে দেন সাদিও মানে। সেখান থেকে পাপে গেইকে পাস দেন তিনি। ভিয়ারিয়াল মিডফিল্ডার মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিকে পেছনে ফেলে দারুণ শটে গোল করেন। বল জালে জড়িয়ে যায় গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর হাত ছুঁয়ে।

গোলের পর স্তব্ধ হয়ে যায় প্রিন্স মৌলাই আবদেল্লাহ স্টেডিয়াম। ৬৬ হাজারের বেশি দর্শক হতাশায় ডুবে যান। পরে মরক্কো সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা করেছিল। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় ভাগে নাইয়েফ আগুয়ের্দের হেড ক্রসবারে লাগে। তবে শেষ পর্যন্ত আর গোল আসেনি।
এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয় যোগ করা মিনিটে সেনেগালের একটি গোল বাতিল হয়। কর্নার থেকে আবদুলায়ে সেকের হেড পোস্টে লেগে ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠান ইসমাইলা সারে। কিন্তু রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন। এই সিদ্ধান্তেও ক্ষুব্ধ ছিল সেনেগাল দল।
ম্যাচ শেষে সেনেগাল আরও স্বস্তিতে থাকতে পারত, যদি অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে শেরিফ এনদিয়ায়ে সহজ সুযোগ নষ্ট না করতেন। তবুও শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে তারা। গত তিন আসরের মধ্যে এটি সেনেগালের দ্বিতীয় এএফকন শিরোপা।

#ফাইনাল #মরক্কো #আফ্রিকান
#নেশন্স #কাপ #সেনেগাল
#final #african #nations #cup
#senegal #morocco #champion
#sports #sportsnews #JONODESH

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *