ডিসকাউন্টে আইফোন কেনার আগে জরুরি কয়েকটি সতর্কতা

গ্যাজেট টেক
ডিসকাউন্টে আইফোন কেনার আগে জরুরি কয়েকটি সতর্কতা
দেশে এখন প্রায় সব পণ্যেই অফার বা ডিসকাউন্টের ছড়াছড়ি। অনলাইন ও অফলাইন মার্কেটে নানা ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনের মতো দামি পণ্যেও অফার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে অনেক অনলাইন শপ এবং রিসেল পেজ অবিশ্বাস্য কমদামে আইফোন বিক্রির অফার দিচ্ছে। কিন্তু এসব অফারের আড়ালে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে প্র/তারণা, অ/বৈ/ধ লেনদেন এবং প্রযুক্তিগত ঝুঁকি।
অল্প কিছু বিষয় খেয়াল না রাখলে সহজেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিতে পড়তে পারেন। তাই ডিসকাউন্টে আইফোন কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই যাচাই করা প্রয়োজন।
যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন—
অস্বাভাবিক কমদাম দেখলেই সন্দেহ করুন
আইফোন কোনো সময়ই অস্বাভাবিক কম দামে পাওয়া যায় না। সামাজিক মাধ্যমের নতুন বা অগোছালো পেজে হঠাৎ পাওয়া কম দাম সাধারণত প্র/তারণার ইঙ্গিত দেয়। শুধু দাম দেখে সিদ্ধান্ত নিলে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি।
অনুমোদিত রিটেইলার থেকে কেনার চেষ্টা করুন
সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো অ্যাপলের অনুমোদিত রিটেইলার বা বিশ্বস্ত দোকান থেকে আইফোন কেনা। এখানে অরিজিনাল পণ্য, অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং রিটার্ন সুবিধা পাওয়া যায়। দাম একটু বেশি হলেও ঝুঁকি কম থাকে।
ডিসকাউন্টের আড়ালে লুকানো ব্যাটারি সমস্যা
অনেকে কম ব্যাটারি হেলথযুক্ত ফোন ডিসকাউন্টের নামে বিক্রি করে থাকে। আইফোনের ব্যাটারি হেলথ যদি ৮৫ শতাংশের নিচে হয়, তাহলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়। তাই কেনার আগে ব্যাটারি হেলথ অবশ্যই পরীক্ষা করুন এবং সম্ভব হলে ৮৫ শতাংশের বেশি ব্যাটারি হেলথ বেছে নিন।
ফে/ক বা নন-অরিজিনাল পার্টস চেক করুন
অনেক বিক্রেতা স্ক্রিন বা ব্যাটারি বদলে অরিজিনাল বলে বিক্রি করেন। নন-অরিজিনাল স্ক্রিনে রঙ, ব্রাইটনেস ও টাচের মান খারাপ হয়। আইফোন এক্স ও পরবর্তী মডেলগুলোতে সেটিংসে Parts & Service History দেখে স্ক্রিন বা ব্যাটারি পরিবর্তনের ইতিহাস যাচাই করতে পারেন।
রিকন্ডিশন্ড কিনা যাচাই করুন
অনেক বিক্রেতা রিকন্ডিশন্ড বা রিফারবিশড আইফোনকে নতুন বলে বিক্রি করেন। এসব ডিভাইসে আগেই মেরামত করা হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হয়, যা ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করতে পারে। মডেল নম্বর যদি ‘M’ দিয়ে শুরু হয়, তবে সেটি নতুন ফোন; ‘F’, ‘N’ বা ‘R’ থাকলে বুঝবেন রিকন্ডিশন্ড বা রিপ্লেসমেন্ট ডিভাইস।
আইক্লাউড লক বা অ্যাক্টিভেশন লক আছে কিনা দেখুন
চুরি করা বা লকড আইফোন অনেকসময় কমদামে বিক্রি করা হয়। রিস্টোর করার পরও যদি অ্যাক্টিভেশন লক আসে, তাহলে এটি আসল মালিকের আইক্লাউডে বাঁধা। এ ধরনের ফোন ব্যবহারই করা যায় না। তাই হাতে-কলমে ফোন চালু করে পরীক্ষা করে নিন।
আইএমইআই ও সিরিয়াল নম্বর মিলিয়ে নিন
বক্সে লেখা সিরিয়াল নম্বর এবং ফোনের সেটিংসে থাকা সিরিয়াল নম্বর মিলছে কিনা জরুরি। অনেক প্রতারক ভুয়া বক্স দিয়ে ফোন বিক্রি করে থাকে। অ্যাপলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সিরিয়াল নম্বর দিয়ে ওয়ারেন্টি স্ট্যাটাসও যাচাই করে নিতে পারেন।
সবশেষে পারফরম্যান্স টেস্ট
ফোন হাতে নিয়ে ক্যামেরা, টাচ, ফেস আইডি/টাচ আইডি, স্পিকার, চার্জিং, ওয়াইফাই ও ব্লুটুথ ঠিকমতো কাজ করছে কিনা নিশ্চিত হন। অনেক ডিসকাউন্ট-ফোনে এই ফিচারগুলো ঠিকমতো কাজ করে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *