টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে আজ নিউজিল্যান্ডের প্রথম এবং ভারতের তৃতীয় বিশ্বকাপের জয়ের হাতছানি
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের ব্লকবাস্টার ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক ভারত ও নিউজিল্যান্ড। তৃতীয়বারের মত শিরোপা জিতে বিশ্বরেকর্ড গড়তে চায় টিম ইন্ডিয়া। এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে সর্বোচ্চ দু’বার করে শিরোপা জিতেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত।
অন্যদিকে দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলতে নামা নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য- প্রথমবারের মত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলা। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড।
গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচের সবগুলো এবং সুপার এইট পর্বে তিন ম্যাচ খেলে ২টিতে জয় পায় ভারত। সুপার এইটে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে সেমিফাইনালে নাম খেলায় টিম ইন্ডিয়া। সেমিতে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মত ফাইনালে উঠে ভারত। ২০০৭ সালে প্রথম বিশ্বকাপেই বাজিমাত করেছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ রানে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলে টিম ইন্ডিয়া। ২০১৪ সালেও শিরোপা জয়ের সুযোগ পেয়েছিল ভারত। কিন্তু ফাইনালে শ্রীলংকার কাছে ৬ উইকেটে হেরে যায় তারা। এরপর দশ বছর পর গেল বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে ভারত। কিন্তু ঐ ফাইনালে আর ভুল করেনি তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠ ব্রিজটাউনের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ রানে হারায় ভারত। দ্বিতীয়বারের মত শিরোপা ঘরে তুলে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড স্পর্শ করে টিম ইন্ডিয়া।
এককভাবে বিশ্বরেকর্ড করার সুবর্ণ সুযোগ সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে রেকর্ড তৃতীয় শিরোপা জয়ের সেরা সুযোগ। এই সুযাগ আমরা হাতছাড়া করতে চাই না। দলের সবাই শিরোপা নিয়ে ঘরে ফিরতে মরিয়া। দল হিসেবে আমরা এখন পর্যন্ত দারুণ ক্রিকেট খেলেছি। পারফরমেন্সে ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই এবং ফাইনালে আরও একবার নিজেদের সেরাটা উজার করে দিতে চাই।’চলতি বিশ্বকাপের আগে মাত্র একবার ফাইনালে উঠেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। ২০২১ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৮ উইকেটে হারে নিউজিল্যান্ড। নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার স্মৃতিকে অবিস্মরনীয় করে রাখতে চায় কিউইরা। কারণ এখন অবধি সংক্ষিপ্ত ভার্সনের ক্রিকেটে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়তে পারেনি নিউজিল্যান্ড।বিশ্বকাপের দশম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথমবারের মত শিরোপা ঘরে তুলতে মরিয়া নিউজিল্যান্ড। দলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারিনি, এটা খুবই হতাশার। তবে এবার আমরা শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতে উঠতে চাই এবং শিরোপা জিততে না পারার বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে চাই। তবে ফাইনাল সহজ হবে না। ভারতের বিপক্ষে তাদেরই কন্ডিশনে যেকোন ম্যাচ খেলাই চ্যালেঞ্জিং। তবে আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনাল জয়ের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’
গ্রুপ পর্বে ৪ ম্যাচের মধ্যে ৩টিতে জিতে সুপার এইটে উঠে নিউজিল্যান্ড। সুপার এইটে ৩ ম্যাচ খেলে ১টি করে জয়-হার ও পরিত্যক্ত ম্যাচের কারণে ৩ পয়েন্ট পায় তারা। একই চিত্র ছিল পাকিস্তানেরও। কিন্তু রান রেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় নিউজিল্যান্ড ,সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে নেমে কাগজের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেয় নিউজিল্যান্ড। ফিন অ্যালেনের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ফেভারিট দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারায় কিউইরা।আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামেই ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। একই ভেন্যুতে এবার ভারতের সমর্থকদের হৃদয় ভেঙে হলেও বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্য নিউজিল্যান্ডের।সংবাদ সম্মেলনে স্যান্টনার বলেন, তার দলকে হয়তো ফেভারিট ধরা হচ্ছে না। তবে ছোট ছোট বিষয় ঠিকভাবে করতে পারলে এবং দলগতভাবে ভালো খেলতে পারলে ট্রফি জেতা সম্ভব। “এটা অবশ্যই বড় চ্যালেঞ্জ। সবাই জানে আমরা হয়তো ফেভারিট নই। কিন্তু সেটা নিয়ে আমাদের সমস্যা নেই। ছোট ছোট বিষয় ঠিকভাবে করতে পারলে এবং দল হিসেবে শক্তিশালী পারফরম্যান্স করতে পারলে ট্রফি জেতার সুযোগ তৈরি হবে। আর যদি ট্রফি জিততে কয়েকটি হৃদয় ভাঙতেও হয়—তাতেও সমস্যা নেই,” বলেন স্যান্টনার।সাংবাদিকে ঠাসা সম্মেলনে স্যান্টনার আরও জানান, “এখনও উইকেট দেখিনি। তবে রান উঠবে অনেক। বিশ্বকাপের আগে পাঁচটা ম্যাচ খেলেছি সেখানেও ভালো পিচ ছিল। টুর্নামেন্টে আমরা ধাপে ধাপে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি। প্রথমে গ্রুপ পর্ব, সেখান থেকে সুপার এইট, তারপর সেমিফাইনাল। গোটা টিম খুবই উত্তেজিত। বিশেষ করে গত ম্যাচটা যেভাবে জিতেছি তাতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ভারতও একইভাবে আত্মবিশ্বাস পেয়েছে সেমিফাইনাল থেকে।” উল্লেখ্য, ২০২৩ ফাইনালে স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে ভারতের ভরাডুবি হয়েছিল। এবার একেবারে পাটা পিচ থাকছে আহমেদাবাদে।স্যান্টনার মনে করেন, টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছোট ছোট মুহূর্তই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। “টি–টোয়েন্টিতে অনেক অনিশ্চয়তা থাকে। পুরো বিশ্বকাপেই দেখেছেন—অনেক দল প্রায় সমান শক্তির। শেষ পর্যন্ত কয়েকটি ছোট মুহূর্তই ম্যাচের ফল বদলে দেয়,” বলেন তিনি।স্যান্টনারের মতে, ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার চাপ থাকবে ভারতের ওপর। কিউই অধিনায়ক বলছিলেন, “ভারত অবশ্যই অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফাইনালে নামবে, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। তবে সেমিফাইনালে তারা ২৫৪ রান ডিফেন্ড করতে গিয়ে প্রায় ২৪০ রান দিয়ে ফেলেছে—সেখানে তারা হয়তো আরও ভালো করতে পারত”।তার মতে, ফাইনালে দুই দলই নিজেদের শক্তির ওপর বিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে। “দিন শেষে যে দল বেশি সময় ধরে নিজেদের সেরা খেলাটা ধরে রাখতে পারবে, তারাই জিতবে,” বলেন স্যান্টনার।
#ক্রিকেট #ভারত #নিউজিল্যান্ড
#বিশ্বকাপ #ফাইনাল #টি২০ #ম্যাচ
#cricket #india #newzeland #match
#worldcup #final #t20 #worldcup
#sports #sportsnews #JONODESH

